Mostafizur Firoz Mostafizur Firoz Author
Title: লোক নিবে সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার হিসেবে
Author: Mostafizur Firoz
Rating 5 of 5 Des:
    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার নেওয়া হবে বলে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশ...
সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার নেওয়া হবে ১৪৪ জন। আপনিও আবেদন করতে পারেন এই পদে। ছবিটি রংপুর শিক্ষা অফিস থেকে তুলেছেন মঈনুল ইসলাম 
 
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার নেওয়া হবে বলে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয় (বিপিএসসি) তাঁদের ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে। এই নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিটি www.bpsc.gov.bd ঠিকানায় পাওয়া যাবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এ পদে ১৪৪ জন নেওয়া হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভাগীয় প্রার্থী বা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য ৫০ শতাংশ পদ সংরক্ষিত থাকবে। আর বাকি ৫০ শতাংশ থাকবে সাধারণ প্রার্থীদের। চলছে আবেদনের প্রক্রিয়া। অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে ২৮ জুলাই সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে। তাই এ কাজের সহযোগী হতে চাইলে আপনিও আবেদন করতে পারেন।

আবেদনের যোগ্যতা: এ পদে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক ডিগ্রিসহ দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার্স ডিগ্রি অথবা চার বছর মেয়াদি দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি পাস হতে হবে। বয়স হতে হবে ১ জুন ২০১৫ তারিখে সাধারণ প্রার্থীদের জন্য ১৮ থেকে ৩০ বছর। তবে বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স সর্বোচ্চ ৪৫ বছর হলেও আবেদন করা যাবে। আর মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র ও কন্যাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩২ বছর।

আবেদন প্রক্রিয়া: প্রার্থীদের টেলিটকের ওয়েবসাইট http://bpsc.teletalk.com.bd অথবা বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের ওয়েবসাইট www.bpsc.gov.bd -এর মাধ্যমে কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত আবেদন বিপিএসসি ফরম-৫ পূরণ করে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম এবং ফি জমা দিতে হবে। উল্লিখিত ওয়েবসাইট ওপেন করে Non-Cadre অপশন সিলেক্ট করে ক্লিক করলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও আবেদনপত্র পূরণের যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে। বিপিএসসি ফরম-৫ পূরণ সম্পন্ন হলে Application Preview দেখা যাবে। Preview-এর নির্ধারিত স্থানে প্রার্থীকে১০০ কেবি সাইজের ছবি জেপিজি ফরম্যাটে আপলোড করতে হবে এবং প্রার্থীর স্বাক্ষর ৬০ কেবির বেশি নয়, এ রকম মাপের স্বাক্ষর স্ক্যান করে জেপিজি ফরম্যাটে আপলোড করতে হবে। অনলাইনে আবেদনপত্র যথাযথভাবে পূরণ করে প্রার্থী কর্তৃক আবেদনপত্র সাবমিশন সম্পন্ন হলে কম্পিউটারে ছবিসহ Application Preview দেখা যাবে। নির্ভুলভাবে আবেদনপত্র সাবমিট করা সম্পন্ন হলে প্রার্থী একটি ইউজার আইডিসহ ছবি এবং স্বাক্ষরযুক্ত একটি Applicant’s Copy পাবেন। এই Applicant’s Copy প্রার্থীকে প্রিন্ট অথবা ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে হবে। Applicant’s Copy-তে একটি ইউজার আইডি নম্বর দেওয়া থাকবে এবং এই ইউজার আইডি ব্যবহার করে যেকোনো টেলিটক প্রি-প্রেইড মোবাইল নম্বর থেকে এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি বাবদ ৫০০ টাকা জমা দিতে হবে। ফি অবশ্যই আবেদন জমা দেওয়ার তিন দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে। প্রার্থীকে তখন ফিরতি এসএমএসে একটি গোপন নম্বর দেওয়া হবে। এই ইউজার আইডি এবং গোপন নম্বর ব্যবহার করে প্রার্থিত ছবি ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর-সংবলিত প্রবেশপত্র প্রিন্ট ও ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। 

নিয়োগ প্রক্রিয়া: বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথমে ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতে প্রিলিমিনারি বা বাছাই পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। তবে এ পদে আবেদনকারীর সংখ্যা দুই হাজারের বেশি হলেই কেবল প্রিলিমিনারি টেস্ট নেওয়া হবে। বাছাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের www.bpsc.gov.bd বিপিএসি ফরম-৩ সংগ্রহ ও পূরণ করে শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ অন্য কাগজপত্র নির্ধারিত ঠিকানায় জমা দিতে হবে। এরপর প্রার্থীদের ২০০ নম্বরের লিখিত ও ৫০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় বিষয় থাকবে চারটি। বাংলা ৫০, ইংরেজি ৫০, গণিত ও মানসিক দক্ষতা ৬০ এবং সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে ৪০ নম্বর থাকবে। উত্তীর্ণ হতে হলে প্রার্থীকে লিখিত ৪৫ শতাংশ ও মৌখিক পরীক্ষায় ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় আলাদাভাবে পাস করতে হবে।

পরীক্ষার প্রস্তুতি: ২০০৬ সালে দিনাজপুর সদরের বড়ইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন জয়ন্ত কুমার মণ্ডল। এই পদে থাকা অবস্থায় তিনি বিভাগীয় নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা সদরের সহকারী থানা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। পরীক্ষার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলা বিষয়ে ভালো করতে হলে সাহিত্য ও ব্যাকরণ অংশে বেশি জোর দিতে হবে। কারণ, এখান থেকেই বেশি প্রশ্ন পাওয়া যাবে। ব্যাকরণ অংশে কারক, বিভক্তি, শব্দ, ভাষা, সন্ধি বিচ্ছেদ, সমাস, সমার্থক শব্দ, এক কথায় প্রকাশ, অনুবাদ, বানান শুদ্ধি, বাগধারা—এসব অধ্যায় ভালোভাবে পড়তে হবে। আর সাহিত্য অংশে কবি সাহিত্যিকদের জন্ম-মৃত্যু সাল, কবির নাম, কবিতার পঙ্‌ক্তি, বিভিন্ন বইয়ের রচয়িতা—এসব বিষয় আয়ত্তে থাকলে বাংলা অংশে ভালো করা যাবে। আর ইংরেজিতে ভালো করতে হলে পড়তে হবে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির গ্রামার বইগুলো। Tense, Voice, Article, Parts of speech, Correct spelling, Antonym, Narration, Translation, Noun—এই অধ্যায়গুলো চর্চা করলে ইংরেজিতে ভালো করা যাবে।

গণিতে ভালো করতে হলে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বইগুলো বারবার চর্চা করতে হবে বলে জানান নীলফামারী জেলার ডিমলা থানার সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার মো. বেলাল হোসেন। পাটিগণিত থেকে লসাগু, গসাগু, ঐকিক নিয়ম, শতকরা, সুদকষা, লাভ-ক্ষতি, অনুপাত-সমানুপাত—এসব অধ্যায় ভালো করে চর্চা করলে ফল পাওয়া যাবে। আর বীজগণিতের জন্য করতে হবে উৎপাদক, বর্গ সূত্র ও প্রয়োগ, গসাগু, সূচক, লগারিদম ইত্যাদি অধ্যায়। জ্যামিতির জন্য রেখা, কোণ, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, ক্ষেত্রফল ও বৃত্ত অধ্যায়গুলো আয়ত্তে রাখা দরকার। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ নম্বর কাটা হবে। তাই প্রতিটি উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণ জ্ঞানে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে প্রশ্ন থাকে। এ অংশে ভালো করতে হলে নিয়মিত পত্রিকা পড়া, দেশি-বিদেশি সমসাময়িক খবরগুলো আয়ত্ত করে নেওয়া। বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। বাংলাদেশ অংশে বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, জলবায়ু, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, বিভিন্ন জেলার আয়তন, অর্থনীতি ইত্যাদি সম্পর্কে অবগত থাকা। আর আন্তর্জাতিক অংশের জন্য বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, দিবস, পুরস্কার ও সম্মাননা, সাম্প্রতিক ঘটনা—এসব সম্পর্কে জানা থাকলে ভালো করা যাবে। এ ছাড়া বিগত বছরগুলোর সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার নিয়োগের প্রশ্নগুলো সমাধান করলেও কাজে দেবে।

কাজের ধরন ও বেতন: জয়ন্ত মণ্ডল জানান, একজন সহকারী থানা শিক্ষা অফিসারকে উপজেলা বা থানায় অবস্থিত বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদারকির দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাঁরা বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। শিক্ষার্থীদের পাঠদান পদ্ধতির উন্নতি ও সমস্যা সমাধানে কাজ করেন।
এ ছাড়া তাঁদের এসব বিদ্যালয়ের যাবতীয় বিষয়ে থানা শিক্ষা অফিসারের কাছে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন দেওয়াসহ নানা কাজ করতে হয়।

 অন্যান্য পদের চাকরির মতো এই পদেও পদোন্নতির সুযোগ আছে। চূড়ান্তভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার ১৬ হাজার ৫৪০ টাকা বেতন পাবেন।

About Author

Advertisement

Post a Comment Blogger Disqus

 
Top